ড্যাশিয়েল হ্যামেটের মাল্টা দেশের বাজ, একটি ক্ল্যাসিক হার্ড-বয়েলড গোয়েন্দা উপন্যাস, যেখানে গোয়েন্দা স্যাম স্পেড জড়িয়েপড়ে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা ও খুনের এক বিপজ্জনক জালে। এক রহস্যময় নারী তার কাছে এসে, তাকে একটি দুর্মূল্য মূর্তি খুঁজে বেরকরার কাজ দেয়। ক্রমে স্পেডের সামনে উন্মোচিত হয় পর পর ঘটে যাওয়া নির্মম অপরাধ, দুর্নীতিগ্রস্ত সহযোগী এবং ক্ষনে ক্ষনে বদলে যাওয়া আনুগত্যের জগৎ। তীক্ষ্ণ সংলাপ, নৈতিক দ্বিধা এবং বাস্তবধর্মী দম-বন্ধকরা আবহ, এসবই এই দ্রুতগতির নোয়ার কাহিনিকে আমেরিকান অপরাধ সাহিত্যের একটি মাইলফলকে পরিনত করেছে। বলাযায়, এই বই দ্য মাল্টিজ ফ্যালকন আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
ড্যাশিয়েল হ্যামেট একজন বিখ্যাত আমেরিকান লেখক, বিশেষত গোয়েন্দা সাহিত্যের সাম্রাজ্যে। তাঁর পুরো নাম স্যামুয়েল ড্যাশিয়েল হ্যামেট। জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৭ মে, আমেরিকার মেরিল্যান্ডে। লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগে তিনি পিঙ্কার্টন ডিটেকটিভ এজেন্সিতে কাজ করেছিলেন, এই অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখাকে পরবর্তীকালে অত্যন্ত ধারালো ক’রে তোলে। হ্যামেটকে বলা হয় হার্ড-বয়েল্ড ডিটেকটিভ ফিকশন-এর পথপ্রদর্শক। তাঁর গল্পে অতিরিক্ত আবেগ বা রোমান্টিকতা নেই, আছে কড়া বাস্তবতা, ছোট কিন্তু শক্তিশালী সংলাপ, আর রহস্যের টানটান আবহ। The Maltese Falcon, The Thin Man, Red Harvest, The Glass Key—এই বইগুলো আজও ক্লাসিক হিসেবে পড়া হয়। লেখালেখির বাইরেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬১ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। ড্যাশিয়েল হ্যামেট মানেই আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যের প্রথম পথিকৃৎ, যাকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।
নীলোৎপল সৌগত, ছদ্মনাম, সৌগত পাল বর্তমানে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা। জন্ম হাওড়া জেলায়। তিনি পাঠভবন, শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুলজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। লেখালেখি ও অনুবাদের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তিনি একজন কৃতিত্বসম্পন্ন লেখক এবং গুনী অনুবাদক। তাঁর রচিত ছোটগল্প বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার ও সাহিত্য সমালোচক। তাঁর লেখা চিত্রনাট্য আমরা বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনে দেখেছি।
প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, গোয়েন্দা সাহিত্য সমালচনার প্রকৃত ‘সিধু জ্যাঠা’। শুধু ভারতীয় নয়, বিশ্বায়নের বহু আগেথেকে তিনি বিদেশি গোয়েন্দা সাহিত্যের অগুন্তি পত্রিকা এবং বই নিজের উৎসাহে, বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে এনে পড়ছেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের একনিষ্ঠ অনুরাগী। গোয়েন্দা সাহিত্য বিষয়ে তাঁর বহু বই প্রকাশিত হয়েছে। বেড়াতে ভালোবাসেন, আর ভালোবাসেন প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে লিখতে। পেশায় অ্যাডভোকেট, নেশায় সাহিত্য অনুরাগী, জন্ম এবং নিবাস হাওড়া। এই বইটি সম্ভবপর করার নেপথ্যে প্রধান উৎসাহী শ্রী দাশগুপ্ত, তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা।
মাল্টা দেশের বাজ
বাংলা

